BDK · ভুবনডাঙ্গার কবিতাহোম
বাংলাদেশ · ইতিহাস

বাংলাদেশের ইতিহাস: ১৭৫৭ থেকে বর্তমান

পলাশীর যুদ্ধ, ঔপনিবেশিক শাসন, বঙ্গভঙ্গ, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন রাষ্ট্রের নির্মাণ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন—একই ধারাবাহিক সময়রেখায় সাজানো হয়েছে।

বর্তমান: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন; ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ↗

সময়রেখা

1757

পলাশীর যুদ্ধ: কোম্পানি শাসনের দ্বার

২৩ জুন ১৭৫৭ পলাশীতে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বাহিনী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে পরাজিত হয়। ঘটনাটি শুধু একটি সামরিক সংঘর্ষ ছিল না; বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যায় এবং কোম্পানির শাসন বিস্তারের ভিত্তি তৈরি হয়।

বাংলাপিডিয়া ↗
1793

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৯৩ সালে জমিদার ও তালুকদারদের সঙ্গে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কার্যকর করে। রাজস্ব স্থায়ীভাবে নির্ধারিত হলেও কৃষকের অধিকার একইভাবে সুরক্ষিত ছিল না; ঔপনিবেশিক ভূমি-ব্যবস্থার দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ে।

বাংলাপিডিয়া ↗
1857

সিপাহী বিদ্রোহ ও ব্রিটিশ শাসনের পুনর্বিন্যাস

১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ১৮৫৮ থেকে ব্রিটিশ ক্রাউনের সরাসরি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাসহ উপমহাদেশের প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও রাজনীতিতে নতুন ঔপনিবেশিক কাঠামো শক্তিশালী হয়।

বাংলাপিডিয়া ↗
1905

বঙ্গভঙ্গ

১৬ অক্টোবর ১৯০৫ বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয় এবং ঢাকা রাজধানী করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ গঠিত হয়। প্রশাসনিক যুক্তির পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক জন্মে; স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলন নতুন গতি পায় এবং বঙ্গীয় রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক ও জাতীয়তাবাদী প্রবাহ আরও জটিল হয়।

বাংলাপিডিয়া ↗
1906

ঢাকায় মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা

৩০ ডিসেম্বর ১৯০৬ ঢাকায় অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী কয়েক দশকে ভারতের মুসলিম রাজনীতিতে সংগঠনটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা নেয় এবং বঙ্গীয় রাজনীতিতেও এর প্রভাব গভীর হয়।

বাংলাপিডিয়া ↗
1911–12

বঙ্গভঙ্গ রদ

১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় এবং ১৯১২ সালে পুনর্গঠন কার্যকর হয়। একই সঙ্গে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করে।

বাংলাপিডিয়া ↗
1923

বেঙ্গল প্যাক্ট

চিত্তরঞ্জন দাশের উদ্যোগে ১৯২৩ সালের বেঙ্গল প্যাক্ট হিন্দু-মুসলিম রাজনৈতিক সমঝোতা ও প্রতিনিধিত্বের একটি প্রচেষ্টা ছিল। এটি সর্বভারতীয় কংগ্রেসে টেকেনি, কিন্তু বাংলার ক্ষমতা ভাগাভাগি ও সাম্প্রদায়িক সম্পর্কের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

বাংলাপিডিয়া ↗
1937

প্রাদেশিক নির্বাচন ও এ. কে. ফজলুল হকের মন্ত্রিসভা

১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পর কৃষক প্রজা পার্টির নেতা এ. কে. ফজলুল হক মুসলিম লীগসহ অন্যান্য গোষ্ঠীর সমর্থনে বাংলায় জোট সরকার গঠন করেন। কৃষক, ভূমি, শিক্ষা ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন প্রাদেশিক রাজনীতির কেন্দ্রে আসে।

বাংলাপিডিয়া ↗
1940

লাহোর প্রস্তাব

২৩ মার্চ ১৯৪০ এ. কে. ফজলুল হক লাহোরে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন; ২৪ মার্চ তা গৃহীত হয়। প্রস্তাবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলকে “independent states” হিসেবে সংগঠিত করার ভাষা ছিল; পরবর্তীকালে এটি পাকিস্তান দাবির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়।

বাংলাপিডিয়া ↗
1947

বাংলার দ্বিতীয় বিভাজন

১৯৪৭ সালে বাংলা আবার বিভক্ত হয়। হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ এবং মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চল হয়। সিলেটের গণভোট, র‍্যাডক্লিফ সীমারেখা, উদ্বাস্তু স্রোত ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা মানুষের জীবনকে গভীরভাবে বদলে দেয়।

বাংলাপিডিয়া ↗
1948

রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে আন্দোলনের সূচনা

পাকিস্তান সৃষ্টির পর উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রবণতার বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলায় প্রতিবাদ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদে বাংলাকে ব্যবহারের প্রস্তাব দেন; ছাত্রসমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের আন্দোলন ক্রমে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকারের বৃহত্তর প্রশ্নে পরিণত হয়।

বাংলাপিডিয়া ↗
1949

আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম

১৯৪৯ সালে ঢাকায় আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরে আওয়ামী লীগ নামে পরিচিত হয়। পাকিস্তান পর্বে পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্দোলনে দলটি প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়।

বাংলাপিডিয়া ↗
1952

একুশে ফেব্রুয়ারি ও ভাষা শহীদ

২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ ঢাকায় ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল করলে পুলিশ গুলি চালায়। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে নিহত হন। ভাষা আন্দোলন বাঙালির ভাষাভিত্তিক জাতিসত্তা ও অধিকারচেতনার ইতিহাসে মৌলিক বাঁক তৈরি করে।

বাংলাপিডিয়া ↗
1954

যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী বিজয়

১৯৫৪ সালের পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিপুল বিজয় অর্জন করে। তাদের ২১ দফায় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা, শহীদ মিনার নির্মাণ ও ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটিসহ নানা দাবি ছিল।

বাংলাপিডিয়া ↗
1955–56

বাংলা একাডেমি ও রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি

৩ ডিসেম্বর ১৯৫৫ বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৬ সালের পাকিস্তান সংবিধানে বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষাই রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ভাষা আন্দোলনের সাংস্কৃতিক অর্জন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে শুরু করে।

বাংলাপিডিয়া ↗
1957

কাগমারী সম্মেলন

৬–১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৭ টাঙ্গাইলের কাগমারীতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন, বৈদেশিক নীতিতে জোটনিরপেক্ষতা এবং কেন্দ্রের নীতির প্রশ্নে তীব্র মতভেদ প্রকাশ পায়; পরে মওলানা ভাসানী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন করেন।

বাংলাপিডিয়া ↗
1958

সামরিক শাসন

১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হয়। গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিসর সংকুচিত হয় এবং পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

বাংলাপিডিয়া ↗
1962

শিক্ষা আন্দোলন ও ছাত্ররাজনীতির বিস্তার

আইয়ুব আমলের শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে ১৯৬২ সালের ছাত্র আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে গণআন্দোলনের ধারাকে পুনরুজ্জীবিত করে। শিক্ষা, গণতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি ক্রমে একই রাজনৈতিক পরিসরে মিলতে থাকে।

বাংলাপিডিয়া ↗
1966

ছয় দফা

১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা কর্মসূচি সামনে আনেন। এর লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের দুই অংশের বৈষম্য কমানো এবং পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বিস্তৃত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা। ছয় দফা পরবর্তী গণআন্দোলনের কেন্দ্রীয় সনদ হয়ে ওঠে।

বাংলাপিডিয়া ↗
1968

আগরতলা মামলা

১৯৬৮ সালে শেখ মুজিবুর রহমানসহ বহু বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও ষড়যন্ত্রের মামলা করা হয়, যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত। মামলাটি জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানকে ত্বরান্বিত করে।

বাংলাপিডিয়া ↗
1969

গণঅভ্যুত্থান

ছাত্রদের ১১ দফা, শ্রমিক-কৃষক ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে ১৯৬৯-এর আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আসাদুজ্জামান ও ড. শামসুজ্জোহাসহ নিহতদের স্মৃতি আন্দোলনকে আরও তীব্র করে; আগরতলা মামলা প্রত্যাহার ও শেখ মুজিবের মুক্তির পর আইয়ুব খান ক্ষমতা ছাড়েন।

বাংলাপিডিয়া ↗
1970

নির্বাচনে বাঙালির গণরায়

৭ ডিসেম্বর ১৯৭০ জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের ১৬২টি সাধারণ আসনের মধ্যে ১৬০টি জেতে এবং জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে অচলাবস্থা ১৯৭১-এর সংকটকে গভীর করে।

বাংলাপিডিয়া ↗
১ মার্চ 1971

জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১ মার্চ জাতীয় পরিষদের ৩ মার্চের অধিবেশন স্থগিত করেন। পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক প্রতিবাদ, হরতাল ও অসহযোগ শুরু হয়।

বাংলাপিডিয়া ↗
৭ মার্চ 1971

ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণ

ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। চলমান অসহযোগ, রাজনৈতিক অধিকার ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এই ভাষণে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা পায়।

বাংলাপিডিয়া ↗
২৫–২৬ মার্চ 1971

অপারেশন সার্চলাইট ও স্বাধীনতার ঘোষণা

২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সামরিক দমন অভিযান শুরু করে। ২৫ মার্চের রাত থেকে ২৬ মার্চের প্রারম্ভে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয়; পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়।

বাংলাপিডিয়া ↗
১০–১৭ এপ্রিল 1971

মুজিবনগর সরকার

১০ এপ্রিল নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভিত্তিতে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় শপথ অনুষ্ঠিত হয়। এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্ব দেয়।

বাংলাপিডিয়া ↗
১৬ ডিসেম্বর 1971

বিজয় ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়

নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নতুন সংবিধান, প্রশাসন, অর্থনীতি ও সমাজ পুনর্গঠনের কঠিন কাজ শুরু হয়।

বাংলাপিডিয়া ↗
1972

সংবিধান

গণপরিষদ ৪ নভেম্বর ১৯৭২ বাংলাদেশের সংবিধান গ্রহণ করে এবং ১৬ ডিসেম্বর তা কার্যকর হয়। সংবিধান প্রজাতন্ত্র, মৌলিক অধিকার, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, নির্বাহী, আইনসভা ও বিচারব্যবস্থার কাঠামো নির্ধারণ করে।

বাংলাপিডিয়া ↗
1973

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন

৭ মার্চ ১৯৭৩ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন, শরণার্থী পুনর্বাসন, প্রশাসন গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ছিল রাষ্ট্রের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

বাংলাপিডিয়া ↗
1975

রাষ্ট্রব্যবস্থায় তীব্র রাজনৈতিক পরিবর্তন

১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসে। ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হন; পরবর্তী মাসগুলোতে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান ও ৩ নভেম্বর জেলহত্যা রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ধারাকে গভীরভাবে বদলে দেয়।

বাংলাপিডিয়া ↗
1982–90

এরশাদ শাসন ও গণতন্ত্রের আন্দোলন

১৯৮২ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা নেন। ১৯৮০-এর দশক জুড়ে বিরোধী দল, ছাত্র ও পেশাজীবীদের আন্দোলন চলতে থাকে; ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন।

বাংলাপিডিয়া ↗
1991

সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা

১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ আবার সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় ফিরে যায়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দলীয় রাজনীতি, নির্বাচন ও সাংবিধানিক কাঠামো নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে।

বাংলাপিডিয়া ↗
1997

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি

২ ডিসেম্বর ১৯৯৭ বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। দুই দশকের সশস্ত্র সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে আঞ্চলিক পরিষদ, ভূমি সমস্যা ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থা নির্ধারিত হয়।

বাংলাপিডিয়া ↗
2007–08

জরুরি অবস্থা ও নির্বাচনে প্রত্যাবর্তন

২০০৭ সালে রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে জরুরি অবস্থা জারি হয় এবং সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়। ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়; পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতি আবার নির্বাচিত সরকারের ধারায় ফেরে।

বাংলাপিডিয়া ↗
2017

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। মানবিক সহায়তা, প্রত্যাবাসন, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক কূটনীতি বাংলাদেশের সমসাময়িক ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী প্রশ্ন হয়ে ওঠে।

জাতিসংঘ ↗

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী

তাজউদ্দীন আহমদ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ – ১২ জানুয়ারি ১৯৭২মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকার
শেখ মুজিবুর রহমান১২ জানুয়ারি ১৯৭২ – জানুয়ারি ১৯৭৫প্রধানমন্ত্রী
মুহাম্মদ মনসুর আলীজানুয়ারি ১৯৭৫ – ১৫ আগস্ট ১৯৭৫প্রধানমন্ত্রী
শাহ আজিজুর রহমান১৯৭৯ – ১৯৮২প্রধানমন্ত্রী
আতাউর রহমান খান১৯৮৪ – ১৯৮৫প্রধানমন্ত্রী
মিজানুর রহমান চৌধুরী১৯৮৬ – ১৯৮৮প্রধানমন্ত্রী
মওদুদ আহমেদ১৯৮৮ – ১৯৮৯প্রধানমন্ত্রী
কাজী জাফর আহমেদ১৯৮৯ – ১৯৯০প্রধানমন্ত্রী
খালেদা জিয়া১৯৯১ – ১৯৯৬; ২০০১ – ২০০৬দুই দফায় প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা১৯৯৬ – ২০০১; ২০০৯ – ৫ আগস্ট ২০২৪দুই পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – বর্তমানবর্তমান প্রধানমন্ত্রী

২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থান

কোটা সংস্কারের আন্দোলন থেকে রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন

সরকারি চাকরির কোটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে দ্রুত বিস্তৃত হয়। সংঘর্ষ, প্রাণহানি, ইন্টারনেট বন্ধ, কারফিউ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর শক্তি প্রয়োগের মধ্যে আন্দোলন এক পর্যায়ে সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের অনুসন্ধানে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের সময়কালে নিহতের সংখ্যা সর্বোচ্চ প্রায় ১,৪০০ হতে পারে বলে অনুমান করা হয় এবং নিহতদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শিশু ছিল বলে জানানো হয়।

~১,৪০০OHCHR-এর সর্বোচ্চ আনুমানিক মৃত্যু
১২–১৩%শিশুদের আনুমানিক অংশ
৫ আগস্টশেখ হাসিনা সরকারের পতন
OHCHR Fact-Finding Report ↗
৫ জুন – জুলাইয়ের শুরু

কোটা প্রশ্নে নতুন আন্দোলন

হাইকোর্টের একটি রায়ের পর সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের প্রশ্ন সামনে আসে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা মেধাভিত্তিক নিয়োগ বাড়ানো ও কোটা সংস্কারের দাবিতে কর্মসূচি শুরু করেন। আন্দোলন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

১৪–১৬ জুলাই

সংঘাত তীব্র হয়; আবু সাঈদের মৃত্যু আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়

রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তাঁর মৃত্যু ও ঘটনাস্থলের দৃশ্য সারাদেশে প্রবল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

১৮–২১ জুলাই

ইন্টারনেট বন্ধ, কারফিউ ও ব্যাপক প্রাণহানি

দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে; ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয় এবং পরে কারফিউ জারি হয়। পথচারী, শ্রমজীবী, শিক্ষার্থী এবং ঘর বা ছাদে থাকা শিশু–কিশোরও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ২১ জুলাই আপিল বিভাগ সরকারি চাকরির অধিকাংশ পদ মেধাভিত্তিক রাখার নির্দেশ দেয়, কিন্তু ততক্ষণে আন্দোলনের কেন্দ্রে নিহতদের বিচার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির দাবি চলে আসে।

শেষ জুলাই – ৩ আগস্ট

আন্দোলনের বিস্তার ও এক দফা দাবি

আন্দোলনের সমন্বয়কদের আটক, আহতদের অবস্থা এবং নিহতদের সংখ্যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। শিক্ষক, অভিভাবক, পেশাজীবী ও সাধারণ নাগরিকের অংশগ্রহণ বাড়ে। ৩ আগস্ট সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করা হয়।

৪ আগস্ট

আরও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আন্দোলনকারী, ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত হন। পরদিন ঢাকামুখী কর্মসূচির ঘোষণা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায় তৈরি করে।

৫ আগস্ট

সরকারের পতন

বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকার দিকে অগ্রসর হলে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশ ত্যাগ করেন। এর মাধ্যমে তাঁর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশ নতুন অন্তর্বর্তী রাজনৈতিক পর্যায়ে প্রবেশ করে।

OHCHR ↗

শিশু–কিশোর শহীদদের স্মৃতি

রিয়া গোপ — ৬ বছরনারায়ণগঞ্জে বাসার ছাদে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে পরে হাসপাতালে মারা যায়।
সাফকাত সামির — ১১ বছরমিরপুরে ঘরের জানালা বন্ধ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।
জোবাইদ হোসেন ইমন — ১২ বছর১৯ জুলাই নিহত। পরিবারের দায়ের করা মামলায় র‍্যাবের হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।বাসস · মামলার অভিযোগ ↗
মোবারক হোসেন — ১৩ বছরঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শিশুদের একজন।
তাহমিদ ভূঁইয়া তামিম — ১৫ বছরনরসিংদীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
গোলাম নাফিজ — ১৭ বছর৪ আগস্ট ফার্মগেটে গুলিবিদ্ধ হয়; হাসপাতালে নেওয়ার বহুল আলোচিত দৃশ্য জুলাইয়ের স্মৃতিচিহ্ন হয়ে আছে।
ফারহান ফাইয়াজ — ১৭ বছরঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থী; ১৮ জুলাই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত।

৮ আগস্ট ২০২৪ – ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৮ আগস্ট ২০২৪

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা পুনর্গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জুলাই–আগস্টের সহিংসতার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি রাষ্ট্রীয় এজেন্ডার কেন্দ্রে ছিল।

২০২৬: নির্বাচিত সরকার

২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নতুন সরকার

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নির্বাচন কমিশন ↗ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ↗